কীভাবে লিখব শর্টফিল্মের স্ক্রিপ্ট

0
117

সর্বশেষ আপডেট জুলাই ৩, ২০২১ | ইমরান

ফিল্ম বানানো কিন্তু এখন অনেক সহজ হয়ে এসেছে। এই যা! সবাই নিশ্চয় এখন হইহই করে ছুটে আসবে! কিসের সহজ, কই সহজ, কীভাবে সহজ ইত্যাদি প্রশ্নের ঝড় তুলবে!
একটা বিষয় একটু খেয়াল করলেই কিন্তু দেখতে পাই যে আমাদের সবার হাতেই তো অন্তত একটা স্মার্টফোন আছে আর তাতে বেশ ভালো মানেরই একটা ক্যামেরা আছে। তার মানে ধরে নেওয়া যায় ক্যামেরা এখন খুব বড় সমস্যা না। অন্যদিকে একটু খোঁজখবর করলে বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেই কিন্তু অভিনয় করতে চাওয়া মানুষের সংখ্যাও নেহাত যে কম না তা–ও বোঝা যায়। আমার এক বন্ধু বলে, প্রত্যেক মানুষই নাকি জীবনে অন্তত একবার হলেও অভিনয়শিল্পী হতে চায়…তা শেষ পর্যন্ত হতে পারুক আর না-ই পারুক! তো পেশাদার অভিনেতা ছাড়াও হাতের নাগালেই এই উঠতি অভিনয়শিল্পীর অভাব কিন্তু নেই। ক্যামেরা ও অভিনয়শিল্পীর পাট যদি চুকে যায়, তাহলে আর কী ঠেকাচ্ছে আমাদের ফিল্ম বানানো থেকে।

গল্প
অবশ্য শুধু গল্প পেলেই তো হচ্ছে না, সেটাকে কীভাবে দেখানো হবে, অর্থাৎ সেটার স্ক্রিপ্ট কেমন হবে, সেটাও তো বিষয়। তাহলে আসলে আমাদের আটকে দিচ্ছে একটা স্ক্রিপ্ট। তো স্ক্রিপ্টের ভেতরের কারিকুরি আর জারিজুরিটাও দেখে নেওয়া যাক না এই ফাঁকে! কোথা থেকে শুরু করব আমরা আর কোথায় বা গিয়ে থামব…এবার নাহয় তার ওপর একটু (কিশোর) আলো ফেলা যাক!

বিজ্ঞাপন
সব জার্ম জার্ম নয়
শুরুটা কিন্তু একেবারেই একটা প্রথাগত বিষয়—মানে ঠিক করা, কী নিয়ে ফিল্ম বানাব। আইডিয়াটা কী? কিংবা গল্পটা কী? নাকি কোনো একটা বিশেষ চরিত্রকে বলব আমরা? কেউ কেউ এই চিন্তাকে চিন্তার ‌‘জার্ম’ বলে থাকেন। জার্ম—জীবাণু; এখানে গল্পাণু। প্রথম ভাবনা। হয়তোবা ভাবা গেল আমরা এক কৃষকের গল্প বলব। এটা প্রথম চিন্তা…জার্ম…আইডিয়া…গল্পাণু যা–ই বলি না কেন! এবার কিন্তু ভাবতে হবে আমরা এই গল্পটা কেন বলব? অর্থাৎ এই যে একটা চরিত্র ধরে নিচ্ছি আমরা—যে কৃষিকাজ করে, তার এমন কোনো গল্প আছে কি, যেটা আমি বলতে চাই? ভেবে দেখা যাক। না, নেই। আমি অন্ততপক্ষে জানি না। তাহলে কী দেখাব আমরা ফিল্মে? একজন কৃষক প্রতি ভোরে কৃষিকাজ করতে যান মাঠে, তারপর সন্ধ্যায় ফিরে আসেন। পুরো ফিল্মে নিশ্চয়ই আমরা তা দেখাতে চাই না! তাহলে? তাহলে এই কৃষকের একটা গল্প লাগবে। গল্পটা কীভাবে হবে? ভাবতে হবে। এমন কোনো একটা গল্প যেটা আমাদের আলোড়িত করবে। আমাদের সবার প্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, টেলিভিশন সিনেমাটির গল্প যখন তাঁর মাথায়, তখন তিনি ঘুমাতে পারতেন না। গল্পটায় তিনি এতই আবিষ্ট হয়ে থাকতেন যে অন্য কিছু ভাবতেও পারতেন না। আমরাও যখন কোনো ফিল্মের জন্য গল্প ভাবব, তখন যেন এমনই আবিষ্ট থাকতে পারি আমাদের গল্প নিয়ে। এমন কিছু যেন ভেবে উঠি যেন উত্তেজনায় আমরাও ঘুমাতে না পারি। গল্পের খুদে জার্মকে যেন আমরা দারুণ একটা দৈত্য-গল্পে পরিণত করতে পারি।

গল্পের গরু কই ওঠে
প্রবাদে আছে, গল্পের গরু নাকি গাছেও ওঠে। আমি এই প্রবাদের সঙ্গে সব সময় যুক্ত করি যে গল্পের গরু গাছে উঠতে পারে ঠিকই, তবে কীভাবে গাছে উঠল, আমাকে সেটা অবশ্যই বলে দিতে হবে। আর বলতে হবে বিশ্বাসযোগ্যভাবে। বিশ্বাসযোগ্য বিষয়টা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উপস্থাপনভঙ্গির কারণেই রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য গল্প আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। কোনো দিন না দেখেও একচোখা দৈত্যদের আমরা কল্পনা করে আনন্দ পাই; কিংবা সুপারহিরোর উড়ে যাওয়া দেখে আমাদের একবারও মনে হয় না আরে, এমনটা আবার সম্ভব নাকি! সবই কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপনের কারসাজি!

পূর্ববর্তী সংবাদসাত দশকের প্রচেষ্টায় ম্যালেরিয়ামুক্ত হলো চীন
পরবর্তী সংবাদফিলিপাইনে ৮৫ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন