শীতেও লাগামহীন সবজির দাম

0
28

সর্বশেষ আপডেট জানুয়ারি ২১, ২০২২ | ইমরান

গত কয়েক মাস ধরেই ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন যে বাজারে শীতের সবজি আসলেই দাম কমে যাবে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা তাদের দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। ফলে আশা অনুযায়ী বাজারে শ্কাসবজির দাম না কমায় হতাশ ক্রেতারা।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। আর হাইব্রিড জাতীয় শসা ৬০ টাকা কেজিতে হলেও দেশি শসার কেজি ৮০ টাকা। যা শীতের এই সময়ে এত বেশি হওয়ার কথা না। বাজারে শীতের অন্যতম সবজি ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। যা প্রতিবছর এই সময়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা পিস পাওয়া যায়।
এছাড়া বাজারে দেখা যায়, শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শালগমের (ওল কপি) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাক বিক্রি হচ্ছে। আর পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এ গুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।
মিরপুর ২ নাম্বার বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী খাইরুল আলম বলেন, অন্যান্য বার শীতে সবজির দাম অনেক কম থাকতো। এবার শীতে সবজির দাম সেভাবে কমেনি। সব সবজিই বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের কথা না হয় বাদই দিলাম। আগে বাজারে আসলে সেসব সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন দাম শুনে আধা কেজি করে কিনি।
একই বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, শীত আসার আগে সবজির দাম খুবই বেশি ছিল। আগের তুলনায় দাম এখন কিছুটা কমেছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো খুব বেশি কমেনি। এর কারণ বাড়তি পরিবহন ভাড়া বেশি, বাজারে নানান চাঁদাবাজি। আমরা সবজি কিনতে গেলে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতার হাত পর্যন্ত এসব সবজি পৌঁছানো পর্যন্ত একটু বেশি দাম পড়ে যাচ্ছে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা।
মুরগির দামের বিষয়ে কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী হারুন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম টানা দুই সপ্তাহে ৩০ টাকার মতো কমে যায়। তবে গত সপ্তাহে মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের ধারণা মুরগির এই দাম আরও কিছুদিন স্থিতিশীল থাকবে।
মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং ও টাকি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।
এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। ছোট ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
পূর্ববর্তী সংবাদ‘অভিনেত্রী শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন নোবেল-ফরহাদ’
পরবর্তী সংবাদকারা বুদ্ধিজীবী ?

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন